বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০২:২০
নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থায় বিদেশি বাহিনীর কোনো স্থান নেই: আরাকচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসনের পর পশ্চিম এশিয়ায় একটি নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থার সূচনা হয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থায় বিদেশি বাহিনীর উপস্থিতি বা হস্তক্ষেপের কোনো স্থান থাকবে না।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: বুধবার বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরাকচি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের যুদ্ধের পর অঞ্চলটির পরিস্থিতিতে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থায় আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতা থাকবে এবং সেখানে বিদেশি বাহিনীর উপস্থিতি বা হস্তক্ষেপের কোনো স্থান নেই।”

তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসনের কারণেই বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ইরানি জনগণের সংগ্রাম, প্রতিরোধ ও দৃঢ়তার কারণে আগ্রাসীদের লক্ষ্য ব্যর্থ হয়েছে।

যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে করা ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) যুক্তরাষ্ট্র বারবার লঙ্ঘন করেছে উল্লেখ করে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, অঞ্চলটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তেহরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তিনি বলেন, “ইরানি জনগণের অবিসংবাদিত অধিকার নিশ্চিত করতে নিজেদের নীতিতে অটল থাকা ও দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি আমরা অঞ্চলটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছি। এ লক্ষ্যে আমরা অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছি।”

জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতি লঙ্ঘনের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে চীনের নীতিগত অবস্থানের প্রশংসা করেন আরাকচি। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে ওয়াশিংটনের অপব্যবহারের বিষয়ে বেইজিংয়ের দায়িত্বশীল অবস্থানেরও প্রশংসা করেন তিনি।

অন্যদিকে, ওয়াং ই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকে “অবৈধ” বলে অভিহিত করেন। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখা, সংলাপ এগিয়ে নেওয়া এবং অঞ্চলটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করতে বেইজিংয়ের প্রস্তুতির কথাও জানান।

আরাকচি বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান দৃঢ়তার সঙ্গে তার জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় এবং আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ সুরক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একই সঙ্গে ইরানি জনগণের অধিকার নিশ্চিত করে—এমন কূটনৈতিক সমাধানকে আমরা স্বাগত জানাই।”

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha